Dr. Nazrul Islam- Colorectal General & Laparoscopic Surgeon, Dhaka, Bangladesh

বাংলাদেশে পাইলসের চিকিৎসা: কোন গ্রেডে কী করবেন

 

 

সংক্ষেপে মনে রাখুন:

  • পাইলসের সঠিক চিকিৎসা নির্ভর করে গ্রেড ও ধরনের ওপর।
  • গ্রেড ১ ও ২ সাধারণত খাদ্য, পানি, সিটজ বাথ ও ওষুধে ভালো হয়।
  • গ্রেড ২-৩-এ রাবার ব্যান্ড লাইগেশন বা লেজার কাজে আসে।
  • গ্রেড ৩-৪-এ অনেক সময় অপারেশন লাগে।
  • বারবার রক্তপাত হলে সেটাকে হালকাভাবে নেবেন না।
  • তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখালে কম ব্যথা, কম খরচ ও দ্রুত সুস্থতা।

লজ্জা বা দেরি — এই দুটোই পাইলসের সবচেয়ে বড় শত্রু। বরং শুরুতেই সঠিক পরামর্শ নিন, তাতে আপনার কষ্ট, সময় ও খরচ সবই কমবে।

মেডিক্যাল ডিসক্লেইমার:

এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্যসচেতনতা ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। আপনার যদি পায়খানার সঙ্গে রক্ত, তীব্র ব্যথা, মলদ্বারের কাছে গুটি, জ্বর, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, কালো পায়খানা, বা পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত একজন যোগ্য ডাক্তার বা কোলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নিন। সব রক্তপাত বা মলদ্বারের সমস্যা পাইলসের কারণে হয় না; অন্য গুরুতর রোগও এর কারণ হতে পারে।

 

পায়খানার সঙ্গে হঠাৎ রক্ত দেখলে যে কেউ ভয় পান। মলদ্বারে ব্যথা, চুলকানি বা গুটি অনুভব করলে অনেকে লজ্জায় কাউকে বলতেও পারেন না। ফলে দিনের পর দিন কষ্ট সহ্য করেন, অথচ চিকিৎসাটা তেমন জটিল কিছু নয়।

এই লেখায় আমি সহজ ভাষায় বোঝাতে চেষ্টা করব — বাংলাদেশে পাইলসের চিকিৎসা আসলে কেমন হয়, কোন গ্রেডে কী করা উচিত, ঘরে বসে কতটা সামলানো যায়, কখন ওষুধ যথেষ্ট, আর কখন ডাক্তার বা অপারেশন দরকার। সঙ্গে থাকবে খরচের ধারণা আর সঠিক ডাক্তার বেছে নেওয়ার টিপস।

মূল কথা একটাই: পাইলসের সঠিক চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার ধরন ও গ্রেডের ওপর। তাই নিজে নিজে মলম কিনে খাওয়ার আগে বুঝে নিন — আপনার আসলে কোন পথটা দরকার।

 

পাইলস আসলে কী

পাইলস, যাকে বাংলায় অর্শ বা গেজ রোগ বলা হয়, মূলত মলদ্বার ও রেক্টামের নিচের অংশের রক্তনালী ফুলে যাওয়া। এই ফোলা নালী থেকেই রক্তপাত, ব্যথা, চুলকানি বা গুটির মতো সমস্যা হয়।

এটি একটি সাধারণ ও চিকিৎসাযোগ্য রোগ। লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই — বরং সময়মতো ব্যবস্থা নিলে সহজেই ভালো হয়ে যায়।

গ্রেড অনুযায়ী চিকিৎসার সহজ ছবি

ভেতরের পাইলসকে ডাক্তাররা চারটি গ্রেডে ভাগ করেন। কোন গ্রেডে কী চিকিৎসা লাগে, সেটা জানলে আপনি নিজেই অনেকটা বুঝে যাবেন পরের ধাপ কী।

  • গ্রেড ১ — শুধু রক্ত যায়, পাইলস বাইরে বের হয় না। সাধারণত খাদ্য, পানি ও ওষুধেই ভালো হয়।
  • গ্রেড ২ — পায়খানার সময় বের হয়, নিজে নিজেই আবার ভেতরে ঢুকে যায়। ওষুধ বা ছোট প্রোসিডিউরে সমাধান হয়।
  • গ্রেড ৩ — বের হলে হাত দিয়ে ঠেলে ভেতরে ঢোকাতে হয়। এখানে প্রোসিডিউর, লেজার বা অপারেশন লাগতে পারে।
  • গ্রেড ৪ — সবসময় বাইরে থেকে যায়, ভেতরে ঠেলা যায় না। এই অবস্থায় প্রায় সবসময় অপারেশন দরকার।

সহজ কথায়: গ্রেড যত কম, চিকিৎসা তত সহজ। তাই দেরি না করে শুরুতেই ব্যবস্থা নেওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

ঘরোয়া যত্ন: শুরুটা এখান থেকে

গ্রেড ১ ও অনেক গ্রেড ২ পাইলসে ঘরোয়া যত্নেই বড় উপকার পাওয়া যায়। প্রোসিডিউর বা অপারেশনের পরও এই অভ্যাসগুলো সুস্থ হতে সাহায্য করে।

আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান

পাইলসের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো শক্ত পায়খানা ও কোঁথ দেওয়া। আঁশ পায়খানা নরম রাখে, ফলে চাপ কম পড়ে।

প্রতিদিন খান শাকসবজি, ডাল, পেঁপে, ওটস, লাল চালের ভাত ও ফল। এসব খাবার সহজলভ্য এবং সত্যিই কাজ করে।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

দিনে অন্তত ৮ গ্লাস পানি পান করুন। আমাদের দেশে অনেকেই কম পানি খান, যা কোষ্ঠকাঠিন্য আর পাইলস দুটোই বাড়ায়।

গরম পানিতে বসা (সিটজ বাথ)

কুসুম গরম পানিতে দিনে ২-৩ বার, প্রতিবার ১০-১৫ মিনিট বসে থাকুন। বিশেষ করে পায়খানার পর এটি ব্যথা, ফোলা ও জ্বালাপোড়া অনেকটা কমিয়ে দেয়।

কিছু ছোট অভ্যাস বদলান

  • কোঁথ দেবেন না; পায়খানা সহজে না হলে আগে আঁশ ও পানি বাড়ান।
  • টয়লেটে বেশি সময় বসে থাকবেন না, মোবাইল নিয়ে বসবেন না।
  • প্রতিদিন ২০-৩০ মিনিট হাঁটুন।

সংক্ষেপে: নরম পায়খানা আর কম চাপ — এই দুটো নিশ্চিত করাই ঘরোয়া চিকিৎসার আসল লক্ষ্য।

ওষুধ ও মলম

শুধু ঘরোয়া যত্নে না কমলে ডাক্তার ওষুধ দিতে পারেন। বাংলাদেশে সহজলভ্য কিছু ধরনের ওষুধ ও মলম দিয়ে ব্যথা, ফোলা ও রক্তপাত কমানো যায়।

সাধারণত যা ব্যবহার হয়:

  • মলম বা ক্রিম — ব্যথা, চুলকানি ও ফোলা কমাতে সরাসরি লাগানো হয়।
  • ব্যথানাশক ওষুধ — অস্বস্তি কমায়।
  • আঁশ সাপ্লিমেন্ট (ফাইবার) — পায়খানা নরম রাখে।
  • অল্প সময়ের ল্যাক্সেটিভ — প্রয়োজনে কোষ্ঠকাঠিন্য সামলাতে।

তবে একটা কথা মনে রাখুন — ওষুধ ব্যথা ও উপসর্গ কমায় ঠিকই, কিন্তু বাড়াবাড়ি অবস্থার পাইলস স্থায়ীভাবে সারায় না। তাই নিজে নিজে দোকান থেকে মলম কিনে দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়ার আগে একবার ডাক্তার দেখিয়ে নিন।

ক্লিনিক প্রোসিডিউর: রাবার ব্যান্ড লাইগেশন

মাঝারি ধরনের পাইলসে (বিশেষ করে গ্রেড ২ ও কিছু গ্রেড ৩) অপারেশন ছাড়াই একটি ছোট প্রোসিডিউর কাজে আসে — রাবার ব্যান্ড লাইগেশন।

এখানে পাইলসের গোড়ায় একটি ছোট রাবার ব্যান্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়। এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে পাইলসটি কয়েক দিনের মধ্যে শুকিয়ে খসে পড়ে।

এই পদ্ধতির ভালো দিক হলো — সাধারণত ভর্তি হওয়ার দরকার নেই, রিকভারিও দ্রুত হয়। তবে এটি সবার জন্য নয়; ডাক্তার পরীক্ষা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেন এটি আপনার ক্ষেত্রে উপযুক্ত কিনা।

লেজার পাইলস চিকিৎসা

লেজার এখন পাইলসের একটি আধুনিক ও জনপ্রিয় চিকিৎসা। এখানে নির্দিষ্ট শক্তির লেজার দিয়ে ফোলা পাইলস টিস্যু নিখুঁতভাবে সংকুচিত করা হয়।

সাধারণত গ্রেড ২ ও গ্রেড ৩ পাইলসে বাছাই করা রোগীদের জন্য এটি ব্যবহার হয়। এর সম্ভাব্য সুবিধাগুলো হলো:

  • কম রক্তপাত
  • কম ব্যথা
  • ছোট ক্ষত
  • তুলনামূলক দ্রুত সুস্থতা

তবে লেজারও সবার জন্য উপযুক্ত নয়। আপনার গ্রেড ও অবস্থা দেখে ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেবেন এটি আপনার জন্য ঠিক হবে কিনা।

কখন অপারেশন দরকার

কিছু পাইলস এত বড়, কষ্টদায়ক বা জটিল হয় যে ওষুধ বা ছোট প্রোসিডিউরে কাজ হয় না। তখন অপারেশনই সঠিক পথ।

সাধারণত অপারেশন পরামর্শ দেওয়া হয় যখন:

  • গ্রেড ৪ পাইলস স্থায়ীভাবে বাইরে থেকে যায়।
  • বড় প্রোল্যাপসড পাইলস প্রোসিডিউরে ভালো হয় না।
  • বারবার বেশি রক্তক্ষরণে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়।
  • পাইলসের সঙ্গে ফিশার বা ফিস্টুলা থাকে।
  • অন্য চিকিৎসায় উন্নতি হয়নি।

অপারেশন শুনে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু উপযুক্ত রোগীর ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি আরাম দেয় এবং জীবনযাত্রার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশে চিকিৎসার খরচ কীসের ওপর নির্ভর করে

খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকাই স্বাভাবিক। তবে পাইলসের চিকিৎসার খরচ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়, কারণ এটি অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:

  • পাইলসের গ্রেড — গ্রেড যত বেশি, চিকিৎসা তত বড়।
  • চিকিৎসার ধরন — ওষুধ, প্রোসিডিউর, লেজার নাকি প্রচলিত অপারেশন।
  • অ্যানেস্থেসিয়ার ধরন
  • পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ
  • হাসপাতাল, ভর্তি ও ফলো-আপের প্রয়োজন

তাই কোনো ওয়েবসাইট বা পরিচিতজনের কথায় নির্দিষ্ট একটা খরচ ধরে না নিয়ে, সঠিক ধারণা পেতে একজন বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে নিন। পরীক্ষা করে তবেই সঠিক খরচ বলা সম্ভব।

কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

সব রক্তপাত পাইলসের কারণে হয় না। ফিশার, পলিপ, এমনকি কোলোরেক্টাল ক্যান্সার থেকেও রক্ত যেতে পারে। তাই কিছু লক্ষণকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।

দ্রুত ডাক্তার দেখান যদি থাকে:

  • একাধিকবার পায়খানার সঙ্গে রক্ত
  • রক্তপাতের সঙ্গে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা
  • মলদ্বারের কাছে শক্ত, ব্যথাযুক্ত গুটি
  • জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ
  • ৩ সপ্তাহের বেশি পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তন
  • অকারণে ওজন কমে যাওয়া
  • পরিবারে কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের ইতিহাস

এসব ক্ষেত্রে অপেক্ষা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানোই নিরাপদ।

কোন ডাক্তার দেখাবেন

পাইলসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ডাক্তার হলেন একজন কোলোরেক্টাল সার্জন, অথবা মলদ্বার-সংক্রান্ত রোগে অভিজ্ঞ একজন জেনারেল সার্জন।

একজন ভালো বিশেষজ্ঞ কী করেন:

  • সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করেন।
  • ফিশার, ফিস্টুলা বা সংক্রমণ আছে কিনা দেখেন।
  • আপনার গ্রেড অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা বেছে দেন।
  • খরচ ও রিকভারি স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলেন।

ডাক্তার বেছে নেওয়ার সময় তাঁর ডিগ্রি, অভিজ্ঞতা এবং কোলোরেক্টাল সার্জারিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ আছে কিনা দেখে নিন। শুধু বিজ্ঞাপন দেখে নয়, যোগ্যতা দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

 

সঠিক চিকিৎসার জন্য পরবর্তী ধাপ

আপনার যদি পায়খানার সঙ্গে রক্ত, ব্যথা, ফোলাভাব বা মলদ্বারের কাছে গুটি থাকে, তাহলে অপেক্ষা না করে একজন অভিজ্ঞ কোলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নিন।

ডা. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম — FCPS (Surgery), MS (Colorectal Surgery), FACS (Fellow, American College of Surgeons) — ঢাকায় পাইলস, ফিশার, ফিস্টুলাসহ কোলোরেক্টাল সমস্যার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা করেন। আপনার সমস্যার ধরন ও গ্রেড দেখে তবেই তিনি চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন।

সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিন — আজই একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে নিশ্চিন্ত জীবনের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যান।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

পাইলস নিয়ে রোগীদের মনে কিছু প্রশ্ন বারবার আসে। নিচে সহজ ভাষায় সেগুলোর উত্তর দেওয়া হলো।

পাইলসের সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা কোনটি?

সবার জন্য এক চিকিৎসা নয়। সঠিক চিকিৎসা নির্ভর করে আপনার পাইলসের গ্রেড ও ধরনের ওপর। গ্রেড ১ ও ২ সাধারণত খাদ্য, পানি ও ওষুধে ভালো হয়। গ্রেড ৩ ও ৪-এ লেজার বা অপারেশন লাগতে পারে। তাই প্রথম ধাপ হলো একজন বিশেষজ্ঞকে দিয়ে পরীক্ষা করানো।

পাইলস কি অপারেশন ছাড়া ভালো হয়?

হ্যাঁ, অনেক ক্ষেত্রেই হয়। গ্রেড ১ ও ২ পাইলস খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন, ওষুধ, সিটজ বাথ ও রাবার ব্যান্ড লাইগেশনের মতো ছোট প্রোসিডিউর দিয়ে অপারেশন ছাড়াই ভালো হতে পারে। তবে বাড়াবাড়ি অবস্থায় অপারেশন লাগতে পারে।

কোন গ্রেডে অপারেশন দরকার হয়?

সাধারণত গ্রেড ৩ ও গ্রেড ৪-এ অপারেশন লাগতে পারে। বিশেষ করে গ্রেড ৪, যেখানে পাইলস স্থায়ীভাবে বাইরে থেকে যায় ও ভেতরে ঠেলা যায় না, প্রায় সবসময় অপারেশন দরকার হয়।

বাংলাদেশে কি লেজার পাইলস চিকিৎসা পাওয়া যায়?

হ্যাঁ, বাংলাদেশে বাছাই করা রোগীদের জন্য লেজার পাইলস চিকিৎসা পাওয়া যায়। এটি একটি আধুনিক পদ্ধতি, তবে সবার জন্য উপযুক্ত নয়। আপনার গ্রেড ও অবস্থা দেখে ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেন এটি আপনার জন্য ঠিক কিনা।

পাইলস চিকিৎসার খরচ কেমন?

খরচ একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম। এটি নির্ভর করে পাইলসের গ্রেড, চিকিৎসার ধরন (ওষুধ, প্রোসিডিউর, লেজার বা অপারেশন), অ্যানেস্থেসিয়া, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং হাসপাতাল ও ফলো-আপের প্রয়োজনের ওপর। সঠিক খরচ জানতে হলে পরীক্ষা করে দেখানোই ভালো।

পাইলসের জন্য কোন ডাক্তার দেখাব?

পাইলসের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ডাক্তার হলেন একজন কোলোরেক্টাল সার্জন, অথবা মলদ্বার-সংক্রান্ত রোগে অভিজ্ঞ একজন জেনারেল সার্জন। ডাক্তার বেছে নেওয়ার সময় তাঁর ডিগ্রি, অভিজ্ঞতা ও এই বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ আছে কিনা দেখে নিন।

কখন দ্রুত ডাক্তার দেখানো জরুরি?

একাধিকবার পায়খানার সঙ্গে রক্ত গেলে, রক্তপাতের সঙ্গে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা থাকলে, মলদ্বারের কাছে শক্ত ব্যথাযুক্ত গুটি থাকলে, জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ বের হলে, অথবা অকারণে ওজন কমে গেলে দ্রুত ডাক্তার দেখান।

পায়খানার সঙ্গে রক্ত মানেই কি পাইলস?

না। পায়খানার সঙ্গে রক্ত ফিশার, পলিপ, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ, এমনকি কোলোরেক্টাল ক্যান্সারের কারণেও হতে পারে। তাই বারবার রক্ত গেলে এটিকে পাইলস ধরে নেবেন না — অবশ্যই একজন যোগ্য ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করান।

পাইলসের অপারেশন কি অনেক ব্যথার?

আধুনিক পদ্ধতি, বিশেষ করে লেজার চিকিৎসা, ব্যথা কম রাখার জন্যই তৈরি। প্রোসিডিউরের সময় অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়া হয়। বেশিরভাগ রোগী পরে কয়েক দিন হালকা অস্বস্তি অনুভব করেন, যা নির্ধারিত ওষুধেই নিয়ন্ত্রণে থাকে।

তথ্যসূত্র ও আরও পড়ুন (References & Further Reading)

এই লেখার তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চিকিৎসা উৎস ও নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্যসূত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আরও বিস্তারিত জানতে নিচের উৎসগুলো দেখতে পারেন।

তথ্যসূত্র (References)

  • Piles (Haemorrhoids) — NHS UK — পাইলসের লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা নিয়ে যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার সহজ ও নির্ভরযোগ্য গাইড।
  • Hemorrhoids: Symptoms, Causes & Treatment — Cleveland Clinic — হেমোরয়েড কেন হয়, কীভাবে বোঝা যায় ও কী চিকিৎসা আছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা।
  • Hemorrhoids — Mayo Clinic — পাইলসের লক্ষণ ও কারণ নিয়ে বিশ্বখ্যাত মেয়ো ক্লিনিকের নির্ভরযোগ্য তথ্য।

আরও পড়ুন (Internal Further Reading)

✍️ লিখেছেন: মো. সালাউদ্দিন বিশ্বাস
MA in Medical Anthropology, University of Heidelberg, Germany |
সাবেক সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, James P Grant School of Public Health, BRAC University |
হেলথ কনটেন্ট রাইটার ও এসইও স্পেশালিস্ট |
প্রকাশিত: BMC Human Resources for Health | EEAT-Optimized Medical Content। Website: salauddinbiswas.com

🩺 মেডিক্যালি রিভিউ ও অনুমোদন করেছেন: ডা. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম
FCPS (Surgery) · MS (Colorectal Surgery) · FACS (Fellow, American College of Surgeons)
সহকারী অধ্যাপক (কোলোরেক্টাল সার্জারি), শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।

📅 লেখা হয়েছে: জুলাই ২০২৬

Related posts

Leave the first comment

Module General Hospital 

Address: 1/G/3, Paribag, Hatirpool, Shahabagh, Dhaka, Bangladesh, 1000

Visiting Days:  Saturday, Sunday, Monday, Tuesday and Wednesday

 

Visiting Hours: 3:00pm – 4:00 pm

Farazy Hospital Limited

Address: House No: 15-19, Block: E, Main Road, Dhaka 1219

Visiting Days:  Saturday, Sunday, Monday and Wednesday

Visiting Hours: 5:30pm – 8:00 pm